জোরালো হচ্ছে ‘এল নিনো’, চরম দুর্যোগের আভাস


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৮, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
জোরালো হচ্ছে ‘এল নিনো’, চরম দুর্যোগের আভাস

জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করেছে, প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি শুরু হয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি দ্রুত শক্তিশালী রূপ নেবে। সংস্থাটির আশঙ্কা, চলতি বছরের এল নিনো সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী আবহাওয়াগত ঘটনায় পরিণত হতে পারে, যার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, বন্যা, তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

জেনেভা থেকে গত ৩ জুলাই বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, সংস্থার সর্বশেষ ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’-এ বলা হয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছাবে। বর্তমানে এটি ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা সংস্থার চার ধাপের শ্রেণিবিন্যাসে তৃতীয় স্তর।

এল নিনোর সময় মধ্য ও পূর্ব বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাতের ধরন ও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এ ঘটনা ঘটে এবং এর স্থায়িত্ব প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস।

ডব্লিউএমওর জলবায়ুবিজ্ঞানী আলভারো সিলভা বলেছেন, আগের তুলনায় এখন আরও বেশি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে যে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসে এর তীব্রতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে নতুন হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হবে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর গোলার্ধের শরৎকাল পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে। বিশ্বের অধিকাংশ জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমে খরার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং পেরু ও ইকুয়েডরে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অস্ট্রেলিয়ায় তাপপ্রবাহ, দাবানল ও খরার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলেও শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। উত্তর ব্রাজিলে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আমাজন অঞ্চলে দাবানলের আশঙ্কাও বাড়বে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএমও। সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, স্বাস্থ্য, পানি ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলাসহ জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতগুলোকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

ডব্লিউএমও আরও জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি এল নিনোর সৃষ্টি বা তীব্রতা বাড়ায়—এমন প্রমাণ না থাকলেও উষ্ণতর সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল চরম আবহাওয়ার ঘটনাকে আরও তীব্র করে তুলছে। ফলে এল নিনোর প্রভাব আগের তুলনায় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।