
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা। প্রতিবছর লাখো প্রার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিলেও কঠিন প্রতিযোগিতা পেরিয়ে অল্পসংখ্যক প্রার্থীই কাঙ্ক্ষিত ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার সুযোগ পান। এমনই এক সাফল্যের গল্প লিখেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী মোছা. শাহনাজ পারভীন প্রিয়া।
৪৭তম বিসিএসে ফ্যামিলি প্ল্যানিং ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা শাহনাজ বর্তমানে পুরান ঢাকার নিমতলিতে বসবাস করছেন।
শাহনাজ পারভীন জানান, ছোটবেলা থেকেই বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। তবে এই স্বপ্ন পূরণের পথ সহজ ছিল না। বিয়ের পর ২০২৪ সাল থেকে তিনি বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করেন। দীর্ঘ প্রস্তুতির সময়ে তাকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, তাকে দিয়ে বিসিএস হবে না, এই প্রস্তুতি সময় নষ্ট ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু এসব নেতিবাচক মন্তব্য তাকে দমাতে পারেনি। নিজের লক্ষ্য অর্জনে তিনি দৃঢ় ছিলেন এবং পরিশ্রম চালিয়ে গেছেন।
নিজের সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে স্বামী ওয়াকিফুর রহমান ইমরানের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন শাহনাজ। তিনি বলেন, বিসিএস প্রস্তুতির পুরো সময়জুড়ে তার স্বামী তাকে সাহস ও মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন। হতাশার মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং সবসময় বলেছেন, ‘তুমি পারবে, প্রিয়া।’
শাহনাজ বলেন, এই যাত্রায় তার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—কখনো হাল ছাড়া যাবে না। যখন মনে হবে সামনে আর কোনো পথ নেই, তখন ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। কঠিন সময় পার করেই সফলতার পথ তৈরি হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নবনিযুক্ত বিসিএস ক্যাডার শাহনাজ পারভীন বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই তার প্রধান লক্ষ্য। জনগণের সেবা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চান তিনি। তার এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :