আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা ধরে রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখা লক্ষ্য করা হচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড সরবরাহকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর বিপিসিকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন চূড়ান্ত ধাপে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (নোয়া) দেওয়া হবে, যার পরপরই সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হবে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, সাধারণত ছয় মাস অন্তর দেশের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি করা হয়। জুন-আগস্ট সময়সীমার চাহিদা বিবেচনায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। বর্তমানে অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। নতুন আমদানি সম্পন্ন হলে তা ৯০ দিনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাবে। তাদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান বলেন, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করে সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি জানান, শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাত সচল রাখতে নিয়মিত জ্বালানি আমদানি অব্যাহত থাকবে।

বিপিসির প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা ও ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত ব্যয়ে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। প্রয়োজনীয় অর্থ বিপিসির নিজস্ব তহবিল এবং প্রয়োজনে সরকারি সহায়তা বা ঋণের মাধ্যমে মেটানো হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় এমন আগাম মজুত ব্যবস্থা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে।