এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক মৌসুম, দুশ্চিন্তায় ভারত


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক মৌসুম, দুশ্চিন্তায় ভারত

ভারতে গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক জুন মাস পার হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০১ সাল থেকে বৃষ্টিপাতের হিসাব শুরুর পর এটি ছিল পঞ্চম সবচেয়ে শুষ্ক জুন। একই সঙ্গে জুলাই মাসেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা কৃষি খাতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, জুন মাসের শেষ পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ধান চাষে, যেখানে আবাদ কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। ভারতের প্রধান গ্রীষ্মকালীন ফসলের মধ্যে ধান, ডাল, মোটা শস্য, তৈলবীজ, তুলা, আখ ও পাট অন্যতম। এসব ফসল মূলত মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এ বছর বর্ষা তিন দিন দেরিতে শুরু হওয়া এবং পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির অগ্রগতি ধীর থাকায় জমি প্রস্তুত ও বীজ বপনে বিলম্ব হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদ হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর। ধানের আবাদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৮০ হাজার হেক্টরে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর কম।

ভারতের প্রায় অর্ধেক কৃষিজমিতে স্থায়ী সেচব্যবস্থা নেই। ফলে এসব জমি পুরোপুরি বর্ষার বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো বৃষ্টি না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বৃষ্টির কারণে তৈলবীজ উৎপাদনও কমতে পারে, যা দেশটির ভোজ্যতেল আমদানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়াতে পারে।

তবে মৌসুমি বর্ষা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ফলে আগামী মাসগুলোতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে ভারত সরকার জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে এখনই উদ্বেগের কারণ নেই। সরকারি গুদামে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৯৭ লাখ টন চাল মজুত রয়েছে, যা প্রয়োজনীয় মজুতের প্রায় তিন গুণ। এছাড়া সংগ্রহ করা ধান মিলিং শেষ হলে মজুত আরও প্রায় ২ কোটি ৯৮ লাখ টন বাড়বে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানান, জুন মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ১৯০১ সালের পর থেকে মাত্র চারটি জুন মাসে এর চেয়ে কম বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

এখন নজর জুলাই মাসের দিকে। কারণ বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি সাধারণত জুলাইয়েই হয় এবং এই সময়েই অধিকাংশ ফসলের বীজ বপন সম্পন্ন হয়ে থাকে। সরকার সম্ভাব্য দুর্বল বর্ষা ও এল নিনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে কম বৃষ্টিপ্রবণ ৩১৫টি জেলাকে চিহ্নিত করে কম পানিনির্ভর ফসল ও পানি সংরক্ষণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।