ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৩০, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার তিন দিন পরও ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭১৯ জনে। একই সঙ্গে হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২৯ জুন) দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ ভূমিকম্পের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ হাজার ৬১৯ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৪ জন। এছাড়া ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৯টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বজন ও প্রতিবেশীদের উদ্ধারে তারা নিজেরাই শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল ব্যবহার করছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকায় উদ্ধারকারীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সোমবার ভোরে দেশটিতে একটি পরাঘাত অনুভূত হলেও এতে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই ভূমিকম্পকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছালেও সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে। তবে সোমবার ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যা উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। সর্বশেষ সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরা এলাকায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়। কারাকাসের পশ্চিমে পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষদের সরবরাহ করা খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ওপরই অনেক দুর্গত মানুষ নির্ভর করছেন।

তবে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ সদস্য ও সেনাসদস্য উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে প্রতিটি জীবন বাঁচানোই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।