
দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ মানুষ বর্তমানে আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, আর্সেনিক ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারি দলের সদস্য সেলিনা সুলতানার টেবিলে উপস্থাপিত এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন মালটিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০১৯ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ঝুঁকি কমিয়ে আনতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গভীর নলকূপ স্থাপন, পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুর খনন ও পুনঃখনন এবং সৌরচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার স্থাপনের মতো কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এসব উদ্যোগের আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৮টি আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে বর্তমানে আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের হার ৫ থেকে ৬ শতাংশে নেমে আসবে।
গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৭টি নিরাপদ পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৬টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৮ হাজার ২৩৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫টি পানির উৎস স্থাপনের তথ্যও জানান তিনি। সরকারের এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং আর্সেনিক দূষণের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :