হাদিম হত্যা নিয়ে সরাইলে তৃতীয় দিনের সংঘর্ষ, নিহত ১, আহত প্রায় শতাধিক


সরাইল ক্রাইম রিপোর্টার, ফয়জুল কবির প্রকাশের সময় : জুন ৩০, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
হাদিম হত্যা নিয়ে সরাইলে তৃতীয় দিনের সংঘর্ষ, নিহত ১, আহত প্রায় শতাধিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ বাজারে হাদিম মিয়া হত্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধরন্তি ও সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তিন দিনের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন একজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় অবস্থান নেয় এবং একে অপরকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করে। এতে সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

জানা গেছে, ধর্মতীর্থ বিলের জলমহালের ইজারা নিয়ে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে গত রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় কালীকচ্ছ বাজারে সালিশ বৈঠকের সময় মোশাররফ মিয়া ও হাদিম মিয়ার লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওই সংঘর্ষে ধর্মতীর্থ গ্রামের শামসুল হক মিয়ার ছেলে হাদিম মিয়া (৫০) নিহত হন এবং প্রায় ৩০ জন আহত হন।

পরদিন সোমবার (২৯ জুন) হাদিম মিয়ার দাফন শেষে ধর্মতীর্থ গ্রামের লোকজন কালীকচ্ছ বাজারে এসে সূর্যকান্দি গ্রামের লোকজনের ওপর হামলা চালায় এবং বাজারের কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষের পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় নাজিম (১৪) নামে এক কিশোর টেটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুপুর দেড়টার দিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় জেলা রিজার্ভ পুলিশ ও সরাইল থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, দুপুরের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।