
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এখন সেই গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার পালা।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান সদস্যসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার বিস্তার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের যুগে প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামের পরিবর্তন প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন পরিকল্পনা নিতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং ও ন্যানোটেকনোলজির মতো আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান ও কর্মদক্ষতার ওপর জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং গবেষণার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইদের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :