তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে কি বলছে ভারত


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৭, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে কি বলছে ভারত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সফরটিকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোংলা বন্দরের অর্থনৈতিক অঞ্চল, তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা, সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে নয়াদিল্লিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করছে—এমন বিশ্লেষণ তুলে ধরে ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ভারতের দীর্ঘদিনের প্রভাব বলয়ের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

শুক্রবার (২৬ জুন) টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই জমি আগে ভারতের জন্য বরাদ্দ ছিল, যা ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণে বলা হয়, মোংলা বন্দরে চীনা বিনিয়োগ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে বেইজিংয়ের কৌশলগত উপস্থিতি আরও বাড়াতে পারে। পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর থেকে আফ্রিকার জিবুতি পর্যন্ত চীনের বন্দর বিনিয়োগের ধারায় মোংলাও যুক্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে প্রশ্ন তুলেছে, এ পরিস্থিতিতে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে কি না। তাদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প হারানোর নয়, বরং ভারতের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি চীনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির সম্ভাবনার সঙ্গেও যুক্ত।

তিস্তা প্রকল্প নিয়েও ভারতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্য হিন্দু জানিয়েছে, তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনা থাকলেও নতুন সরকার নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চাইছে।

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিস্তা প্রকল্প ভারতের জন্য সংবেদনশীল বিষয়। কারণ নদীটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং এর অবস্থান শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’-এর কাছাকাছি।

সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টিও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, নদী ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো খাতে এসব সমঝোতা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা পর্যায়ের আলোচনার বিষয়টি উঠে এসেছে।

তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হতে পারে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা। চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গ্রহণের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও কৌশলগত সম্পর্কও ধরে রাখতে চায় ঢাকা। ভারতীয় গণমাধ্যমে তারেক রহমানের চীন সফরকে তাই শুধু দ্বিপক্ষীয় সফর নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে সম্ভাব্য পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।