
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে পরিসংখ্যান ও ইতিহাস—দুটোই এগিয়ে রাখছে ব্রাজিলকে। এই ম্যাচে সমতা করলেই দ্বিতীয় পর্বে খেলা নিশ্চিত হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে জয় নিয়েই মাঠে নামতে চায় সেলেসাওরা। লক্ষ্য, গ্রুপসেরা হয়ে পরবর্তী পর্বে ওঠা।
গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে তারকা খেলোয়াড় নেইমারের প্রত্যাবর্তন। তার ফেরায় আক্রমণভাগে বাড়তি শক্তি ও সৃজনশীলতা যোগ হবে বলে মনে করছেন সমর্থক ও বিশ্লেষকরা।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে যুক্তরাজ্যের দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সাফল্যের হার ৮৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে তাদের জয়ের হার ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশ্বকাপ ইতিহাসে গ্রেট ব্রিটেনের দলগুলোর বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচ খেলে অপরাজিত রয়েছে ব্রাজিল। এসব ম্যাচের মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছে তারা এবং ২টি ম্যাচ সমতায় শেষ হয়েছে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দল বিশ্বকাপে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে ব্রাজিল, একটি ম্যাচ সমতায় শেষ হয়েছে। ১৯৭৪ সালে গোলশূন্য সমতার পর ১৯৮২ সালে ৪-১, ১৯৯০ সালে ১-০ এবং ১৯৯৮ সালে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিরা।
শুধু স্কটল্যান্ড নয়, যুক্তরাজ্যের অন্য দলগুলোর বিপক্ষেও দাপট দেখিয়েছে ব্রাজিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের রেকর্ড ৩ জয় ও ১ সমতা। এ ছাড়া ১৯৫৮ সালে ওয়েলসকে ১-০ এবং ১৯৮৬ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ আটের বাধা পেরিয়ে শিরোপার পথে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
তবে একটি কৌতূহলোদ্দীপক তথ্যও রয়েছে। বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে হারানোর পর কোনোবারই শিরোপা জিততে পারেনি ব্রাজিল। ফলে পরিসংখ্যানের বিচারে এগিয়ে থাকলেও ইতিহাসের এই ব্যতিক্রমী তথ্য ম্যাচটিকে বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এবার সেই ইতিহাস বদলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আরও শক্ত করতে চায় ব্রাজিল।
আপনার মতামত লিখুন :