তেলের দামের ভবিষ্যৎ এখন চীনের হাতে 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৩, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
তেলের দামের ভবিষ্যৎ এখন চীনের হাতে 

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে চীনের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার আলোচনা চললেও, বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ব্যবহারকারী দেশ চীনের সিদ্ধান্তই হয়ে উঠছে বাজারের বড় নিয়ন্ত্রক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন এক কোটির বেশি ব্যারেল তেল সরবরাহে সংকট তৈরি হলেও চীন বিভিন্ন কৌশলে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। তেল আমদানি কিছুটা কমানো, মজুত তেল ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঠেকাতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করেছিলেন, চলতি বছরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে বাস্তবে দাম সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এর পেছনে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহের চাপ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে কম দামে রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল কিনে দেশটি বড় মজুত গড়ে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের দাবি, চীনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুতে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ তেল রয়েছে। এই মজুত ব্যবহার করে দেশটি বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে। তবে দীর্ঘদিন এই কৌশল চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, কারণ একসময় মজুত কমে আসবে।

তেলের বাজারে চীনের প্রভাব বাড়ার আরেকটি কারণ হলো বৈদ্যুতিক ও নতুন জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি। দেশটিতে নতুন বিক্রি হওয়া ব্যক্তিগত গাড়ির বড় একটি অংশ এখন বিকল্প জ্বালানিনির্ভর। এর ফলে তেলের চাহিদাও কমছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক হলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরলে আগামী দিনে বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ তৈরি হতে পারে। তখন তেলের দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে তেলের বাজারের ভারসাম্য অনেকটাই নির্ভর করবে চীনের ওপর। অতিরিক্ত তেল বাজারে এলে চীন তা কতটা কিনবে, মজুত কতটা ব্যবহার করবে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে কত দ্রুত এগোবে—এসব সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বিশ্ববাজারে তেলের ভবিষ্যৎ।