
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে উপজেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পুষ্টি সেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন।
সভা পরিচালনা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. দীপ সাহা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মাহমুদ আশিক কবির বলেন, শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিস্মদেব মণ্ডল, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হুমায়ন কবির, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ছিরু মিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. ওহিদুল ইসলাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুকসুদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের ইমাম হাফেজ মনিরুল ইসলাম, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল আরেফিন মুক্তা, দপ্তর সম্পাদক পরেশ বিশ্বাসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় জানানো হয়, আসন্ন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় মুকসুদপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নে মোট ৩৯ হাজার ৩৮৬ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৫ হাজার ৪২৬ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৩ হাজার ৯৬০ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, শিশুদের অপুষ্টি, রাতকানা রোগ এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত দিনে অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান তিনি। সভায় ক্যাম্পেইন সফল করতে স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সাংবাদিক ও স্থানীয় সচেতন মহলের সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :