কেন ২১ জুন বছরের সবচেয়ে বড় দিন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২১, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
কেন ২১ জুন বছরের সবচেয়ে বড় দিন

ছোটবেলার পাঠ্যবইয়ে পড়া দীর্ঘতম দিন ও দীর্ঘতম রাতের কথা অনেকেরই মনে আছে। আজ ২১ জুন, উত্তর গোলার্ধের জন্য বছরের সবচেয়ে বড় দিন। এদিন সূর্য আকাশে সবচেয়ে বেশি সময় অবস্থান করে এবং রাত হয় তুলনামূলকভাবে ছোট।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, পৃথিবীর অক্ষ কিছুটা হেলে থাকার কারণে সূর্যের চারপাশে ঘোরার সময় বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলো পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ভিন্নভাবে পড়ে। ২১ জুন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে এ অঞ্চলে সূর্যের আলো দীর্ঘ সময় ধরে পাওয়া যায় এবং দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে। ফলে এদিন দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। বছরের অন্য দিনের তুলনায় এ সময়টিই উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে দীর্ঘ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়।

বছরের দিনগুলো সব সময় সমান দৈর্ঘ্যের হয় না। পৃথিবীর নিজ অক্ষে ঘূর্ণন ও সূর্যের চারপাশে পরিক্রমণের কারণে কখনো দিন বড় হয়, আবার কখনো ছোট হয়। ২১ জুনের এই বিশেষ ঘটনাকে বলা হয় গ্রীষ্মকালীন অয়ন। সাধারণত ২০ থেকে ২৩ জুনের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।

পৃথিবীর ওপর কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি নামে দুটি কাল্পনিক রেখা রয়েছে। এর মধ্যে কর্কটক্রান্তি রেখা উত্তর গোলার্ধে সূর্যের অবস্থান ও দিনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২১ জুন সূর্যের অবস্থান থাকে এই রেখার কাছাকাছি।

এদিন উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি হেলে থাকায় উত্তর গোলার্ধে সূর্যের আলো বেশি সময় ধরে পড়ে। তবে দক্ষিণ গোলার্ধে ঘটে এর বিপরীত ঘটনা। সেখানে ২১ জুন হয় বছরের সবচেয়ে ছোট দিন এবং দীর্ঘতম রাত।

জানা যায়, বছরের দুবার পৃথিবীতে অয়ন ঘটে। ২১ জুনের পর উত্তর গোলার্ধে ধীরে ধীরে দিনের সময় কমতে শুরু করে এবং রাত দীর্ঘ হতে থাকে। এরপর ২২ ডিসেম্বর হয় বছরের সবচেয়ে ছোট দিন ও দীর্ঘতম রাত।

প্রকৃতির এই নিয়ম শুধু একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, এটি পৃথিবী ও মহাকাশের নির্দিষ্ট নিয়মের এক অসাধারণ উদাহরণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এই দিনকে ঘিরে রয়েছে নানা আয়োজন ও ঐতিহ্য। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ এই সময়কে প্রকৃতির পরিবর্তনের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে।