ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য জাম কি নিরাপদ? উপকার ও ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ণ
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য জাম কি নিরাপদ? উপকার ও ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

গরমের মৌসুমে আম-লিচুর পাশাপাশি বাজারে এখন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে রসালো কালচে-বেগুনি রঙের জাম। সামান্য কষা ও মিষ্টি স্বাদের এই ফল অনেকের কাছেই বেশ প্রিয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে উপকারী একটি ফল হিসেবে পরিচিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নিয়ম না মেনে জাম খেলে উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জামের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে কম এবং এতে প্রচুর ফাইবার থাকে। এ কারণে পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত খাওয়ার ক্ষেত্রে ফলের প্রাকৃতিক ফ্রুকটোজ শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় জাম খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা জরুরি বলে জানান চিকিৎসকরা। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা থাকলে জামের ভেতরের অক্সালেট উপাদান ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা উচ্চ পটাশিয়াম কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এছাড়া যাদের হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত জাম খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে অনেকে লবণ ও মরিচ দিয়ে জাম খেয়ে থাকেন, যা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, জাম খাওয়ার সময় কিছু ভুল এড়িয়ে চলা উচিত। যেমন—খালি পেটে না খাওয়া, খাওয়ার পরপরই পানি না পান করা, এবং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারের সঙ্গে না খাওয়া। এছাড়া হলুদ বা কিছু নির্দিষ্ট উপাদানের সঙ্গে একসঙ্গে না খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জাম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী একটি ফল হলেও এর উপকারিতা নির্ভর করে পরিমাণ ও সঠিক নিয়মে খাওয়ার ওপর। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীরা এটি খেতে পারেন, তবে অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত পরিমাণ ও সতর্কতা মেনে চলা জরুরি, নইলে উপকারের বদলে শরীরে জটিলতা দেখা দিতে পারে।