চোখে সুরমা ব্যবহারে জানুন ইসলাম ও বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
চোখে সুরমা ব্যবহারে জানুন ইসলাম ও বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

চোখের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য যুগ যুগ ধরে সুরমা ব্যবহার করে আসছেন মানুষ। তবে ইসলামি ঐতিহ্যে সুরমা শুধু প্রসাধনী নয়, বরং চোখের যত্ন ও উপকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবেও বিবেচিত। হাদিসে সুরমা ব্যবহারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এর কিছু উপকারিতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের ‘ইছমিদ’ সুরমা ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন। তিনি বলেছেন, ঘুমানোর আগে ইছমিদ সুরমা ব্যবহার করা উত্তম। কারণ এটি চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে এবং ভ্রু গজাতে সহায়তা করে।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি সুরমাদানি ছিল। তিনি প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা ব্যবহার করতেন। মুসলিম সমাজে এ কারণে সুরমা ব্যবহারের সুন্নত আজও প্রচলিত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুরমা মূলত খনিজজাত একটি পদার্থ, যা বিশেষ প্রক্রিয়ায় চূর্ণ করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চোখের পরিচর্যা ও সুরক্ষার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশুদ্ধ ও মানসম্মত সুরমা কিছু ক্ষেত্রে চোখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া চোখে জমে থাকা ধুলাবালি বা ক্ষুদ্র কণিকা দূর করতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, সুরমা চোখে আরাম দেয় এবং জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।

তবে চিকিৎসকরা এ বিষয়ে সতর্কতাও জানিয়েছেন। তাদের মতে, বাজারে পাওয়া সব ধরনের সুরমা নিরাপদ নয়। নিম্নমানের বা ভেজাল সুরমায় ক্ষতিকর ধাতব উপাদান থাকতে পারে, যা চোখের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সুরমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ ও পরীক্ষিত পণ্য বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ইসলামি শিক্ষায় চোখের পরিচ্ছন্নতা ও যত্নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সুরমা ব্যবহার আজও অনেক মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে এর উপকারিতা পেতে হলে নিরাপদ ও মানসম্মত সুরমা ব্যবহারের পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকাও জরুরি।