তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি

মাদারগঞ্জে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত


মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি, আনিছুর রহমান শাহীন  প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বৈশাখের শুরু থেকেই তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, জুনের মাঝামাঝি সময়ে এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকছে। একই সঙ্গে রাতেও স্বস্তি মিলছে না, কারণ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৭ ডিগ্রির মধ্যে থাকায় ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকছে। আর্দ্রতা ৭০–৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোয় অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি মনে হচ্ছে।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রিকশাচালক, কৃষক ও নির্মাণ শ্রমিকরা। দুপুরের সময় কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। মাদারগঞ্জের শ্যামগঞ্জ কালীবাড়ি বাজারের রিকশাচালক শফিক মিয়া বলেন, “দুপুরে রাস্তায় বের হওয়া যায় না, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।”

কৃষি ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বোরো ধান ও পাটের ক্ষেতে সেচ দিতে গিয়ে অনেক কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে। পাট গবেষণা উপকেন্দ্র, মাদারগঞ্জের কৃষিবিদরা অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের সময়ে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্যান-এসি ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে। টিউবওয়েলের পানির স্তর নেমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় খাবার পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুনের দ্বিতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গার মতো মাদারগঞ্জেও এই তীব্র তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, যারা রোদে কাজ করছেন তারা যেন মাঝেমধ্যে ছায়ায় বিশ্রাম নেন, ছাতা ব্যবহার করেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে।