ঈদে কতটুকু মাংস খাওয়া নিরাপদ, জানালেন পুষ্টিবিদ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২৬, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
ঈদে কতটুকু মাংস খাওয়া নিরাপদ, জানালেন পুষ্টিবিদ

কুরবানির ঈদ মানেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি আর মজাদার খাবারের আয়োজন। গরু বা খাসির মাংস দিয়ে তৈরি কাচ্চি, বিরিয়ানি, রেজালা, কোরমা কিংবা কালাভুনা ছাড়া যেন ঈদের আনন্দই অপূর্ণ থেকে যায়। তবে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পুষ্টিবিদদের মতে, ঈদের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতন থাকাও জরুরি। অতিরিক্ত তেল-মসলা ও চর্বিযুক্ত মাংস খেলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে মাংস খাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় সালাদ ও সবজি রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক কেয়ার ক্লিনিকের সিনিয়র নিউট্রিশনিস্ট ও বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালসের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান ইফাত বলেন, লাল মাংসে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স থাকায় এটি শরীরের জন্য উপকারী। তবে একই সঙ্গে এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরলও থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি জানান, সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত মাংস খেতে পারেন। তবে তা একবারে না খেয়ে কয়েক বেলায় ভাগ করে খাওয়া ভালো। একই দিনে ডিম, মুরগি বা অন্য প্রোটিনজাতীয় খাবার খেলে মাংসের পরিমাণ ২০০ গ্রামের মধ্যে সীমিত রাখা উচিত।

অন্যদিকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। এসব রোগে আক্রান্তদের দিনে ৬০ থেকে ৯০ গ্রামের বেশি লাল মাংস না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, মাংসের সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি ও সালাদ খেলে হজম ভালো হয় এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে। প্রতি ৫০ গ্রাম মাংসের সঙ্গে অন্তত ১০০ গ্রাম সবজি বা সালাদ রাখা ভালো।

স্বাস্থ্যকর রান্নার দিকেও গুরুত্ব দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। মাংস রান্নার আগে লেবুর রস, টকদই, আদা বা রসুন দিয়ে মেরিনেট করলে তা সহজপাচ্য হয়। এছাড়া অতিরিক্ত ভাজাভুজি ও ঘি-মাখন এড়িয়ে কম তেলে রান্না করা ভালো। গ্রিল, বেক, স্টিম বা স্ট্যু ধরনের রান্না তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বলে উল্লেখ করেন তারা।

ভারী খাবারের পর হজম ঠিক রাখতে বোরহানি, ঘোল, জিরাপানি বা ডাবের পানি উপকারী হলেও কোমল পানীয় ও কৃত্রিম ফ্লেভারযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।