
আজ ২০ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মৌমাছি দিবস। মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী প্রাণীর পরিবেশ, কৃষি এবং খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ ২০১৭ সালে ২০ মে’কে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০১৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন শুরু হয়। দিবসটির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আধুনিক মৌচাষের পথিকৃৎ স্লোভেনিয়ার অ্যান্টন জনসার জন্মদিন উপলক্ষে। তিনি ১৭৩৪ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌমাছি শুধু মধু উৎপাদনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতেও তাদের ভূমিকা অপরিসীম। ফুলের পরাগায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ফল, শস্য ও ফসলের উৎপাদন বাড়াতে মৌমাছি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ খাদ্যশস্য কোনো না কোনোভাবে পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশে সাধারণত ‘এপিস ইন্ডিকা’ প্রজাতির মৌমাছি বেশি দেখা যায়। এরা গাছের কোটর, দেয়ালের ফাঁটল বা আবদ্ধ স্থানে চাক তৈরি করে বসবাস করে। এই প্রজাতির মৌমাছির উৎপাদিত মধু উৎকৃষ্ট মানের হিসেবে পরিচিত।
মৌমাছির জীবনব্যবস্থাও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। একটি মৌচাকে রানি মৌমাছি, পুরুষ মৌমাছি ও কর্মী মৌমাছি থাকে। কর্মী মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু ও পরাগ সংগ্রহ, চাক নির্মাণ এবং বাচ্চাদের পরিচর্যার কাজ করে থাকে।
মৌমাছির তৈরি মধু সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি ঔষধিগুণেও সমৃদ্ধ। বিশেষ করে সুন্দরবনের মধু তার স্বাদ, গন্ধ ও গুণগত মানের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এছাড়া মৌমাছির তৈরি প্রাকৃতিক মোম দিয়ে পরিবেশবান্ধব নানা পণ্যও তৈরি করা হয়।
তবে পরিবেশবিদরা সতর্ক করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং বন উজাড়ের কারণে বিশ্বজুড়ে মৌমাছির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। তাই মৌমাছি ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে বিশ্ব মৌমাছি দিবসে।
আপনার মতামত লিখুন :