ঠিক কতক্ষণ ঘুমালে যৌবন থাকবে দীর্ঘকাল


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
ঠিক কতক্ষণ ঘুমালে যৌবন থাকবে দীর্ঘকাল

শরীর ও মনকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে ঘুমের ভূমিকা অপরিসীম—এ কথা বহুদিন ধরেই বলে আসছেন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে ঘুমের নির্দিষ্ট সময়সীমা, যা দীর্ঘায়ু ও সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে দাবি করা হচ্ছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি-এর গবেষকেরা। প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন ৬.৪ ঘণ্টা থেকে ৭.৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের জন্য সবচেয়ে আদর্শ। এতদিন সাধারণভাবে মনে করা হতো, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু নতুন গবেষণায় বলা হচ্ছে, প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুম যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত ঘুমও শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

গবেষকদের মতে, এই নির্দিষ্ট সময়ের ঘুমে শরীরের কোষ পুনর্গঠন সঠিকভাবে হয়, মস্তিষ্ক সতেজ থাকে এবং শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিকভাবে কাজ করে। এর ফলে বার্ধক্যের গতি ধীর হয় এবং দীর্ঘদিন তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব হয়। বর্তমান জীবনযাত্রায় মানুষের ঘুমের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। রাত জাগা, মোবাইল ফোনে দীর্ঘ সময় ব্যয়, শিফট ডিউটি ও কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকের ঘুমের সময় অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি দ্রুত এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে বাড়ছে মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি।

বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকে না; বরং তখনও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চলতে থাকে। বিশেষ করে হাইপোথ্যালামাস এবং ব্রেন স্টেম ঘুম ও জাগরণের চক্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ঘুমের সময় শরীরের কোষ মেরামত হয়, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং মস্তিষ্ক নতুন শক্তি সঞ্চয় করে। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে অন্তত ৬.৪ থেকে ৭.৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ঘুমের ঘাটতি থাকলে উদ্বেগ, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ঘুম কিছু শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য নিয়মিত এবং পরিমিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।