অস্টিওপরোসিস: হাড় কেন দুর্বল হয় এবং কীভাবে রক্ষা পাবেন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৭, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
অস্টিওপরোসিস: হাড় কেন দুর্বল হয় এবং কীভাবে রক্ষা পাবেন

সিঁড়ি থেকে নামার সময় হঠাৎ পা বেঁকে হাড় ভেঙে যাওয়া বা সামান্য আঘাতেও ফ্র্যাকচার হওয়া—এগুলো প্রায়ই অস্টিওপরোসিসের লক্ষণ। এটি এমন এক রোগ, যেখানে হাড়ের ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমে যায় এবং সামান্য আঘাতেও ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

অস্টিওপরোসিস কী? অস্টিওপরোসিস হলো হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ। হাড়ের ভিতরে ছোট ছোট ফাঁক তৈরি হওয়ায় তা দুর্বল হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমতে শুরু করা স্বাভাবিক, কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি অনেক দ্রুত ঘটে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে? নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে, বিশেষ করে মেনোপজের পর হরমোনের পরিবর্তনের কারণে।

অপুষ্টি, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন এবং পারিবারিক ইতিহাসও ঝুঁকি বাড়ায়। হাড় সবচেয়ে শক্ত থাকে ২৫–৩০ বছর বয়স পর্যন্ত, এরপর ধীরে ধীরে ঘনত্ব কমতে থাকে।

নীরবভাবে বৃদ্ধি পাওয়া রোগ, প্রথম দিকে লক্ষণ খুব কম থাকে। সাধারণত হাড় ভাঙার পরই রোগ ধরা পড়ে। পরে দেখা দিতে পারে:

কোমর বা মেরুদণ্ডে ব্যথা, উচ্চতা কমে যাওয়া, শরীর বেঁকে যাওয়া কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়? নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটা: হাড় শক্ত রাখতে সাহায্য করে। পুষ্টিকর খাবার: ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার।

পরীক্ষা ও চিকিৎসা, ডেক্সা স্ক্যান: হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসা: ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট, হরমোন থেরাপি ও বিশেষ ওষুধ। সব চিকিৎসা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে।

অস্টিওপরোসিস পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে সচেতনতা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এর গতি অনেকটাই কমানো যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর “চিকিৎসা”।