রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চেনার সহজ উপায় 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৬, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চেনার সহজ উপায় 

গরম এলেই শুরু হয় রসালো আমের মৌসুম। বাজারে হিমসাগর, গোবিন্দভোগ, ল্যাংড়া—বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আমে ভরে ওঠে দোকানগুলো। মিষ্টি ঘ্রাণ আর রসালো স্বাদে এসব আম ক্রেতাদের সহজেই আকৃষ্ট করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকর্ষণের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

অনেক সময় দ্রুত মুনাফার আশায় কিছু ব্যবসায়ী কাঁচা আম দ্রুত পাকাতে রাসায়নিক ব্যবহার করেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো ক্যালসিয়াম কার্বাইড। এই রাসায়নিক আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে গ্যাস তৈরি করে, যার ফলে আম দ্রুত হলুদ হয়ে যায়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় আর্সেনিক ও ফসফরাসজাতীয় বিষাক্ত উপাদানের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের রাসায়নিকযুক্ত আম খেলে শরীরে বমি, পেটের সমস্যা, ত্বকের জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই শুধু বাহ্যিক রঙ বা আকর্ষণীয় চেহারা দেখে আম নিরাপদ কিনা তা বোঝা যায় না।

বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম ও রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম আলাদা করার কিছু সহজ উপায় রয়েছে। প্রাকৃতিক আমে সাধারণত রঙ সব জায়গায় সমান থাকে না—হলুদ ও সবুজের মিশ্রণ দেখা যায়। কিন্তু রাসায়নিক দেওয়া আম অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে একরঙা ও অতিরিক্ত ঝকঝকে দেখায়। ঘ্রাণও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসল আমের বোঁটার কাছে গেলে মিষ্টি সুগন্ধ পাওয়া যায়, কিন্তু কৃত্রিমভাবে পাকানো আমে সেই স্বাভাবিক ঘ্রাণ থাকে না বা অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।

কাটার পর ভেতরের অংশেও পার্থক্য বোঝা যায়। প্রাকৃতিক আম সাধারণত গাঢ় হলুদ, রসালো ও নরম হয়। অন্যদিকে রাসায়নিক ব্যবহার করা আম অনেক সময় ফ্যাকাশে বা শক্ত ধরনের হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে পানিতে পরীক্ষার কথাও বলা হয়—প্রাকৃতিক আম ডুবে যেতে পারে, আর কৃত্রিম আম ভেসে থাকতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, এটি নিশ্চিত পরীক্ষার পদ্ধতি নয়, বরং বাড়তি সতর্কতা হিসেবে দেখা উচিত। তারা আরও বলেন, প্রাকৃতিক আমে ছোটখাটো দাগ বা অসম্পূর্ণতা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত নিখুঁত ও চকচকে আম অনেক সময় সন্দেহের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আম খাওয়ার আগে কয়েক ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে বাইরের কিছু ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ কমতে পারে। পাশাপাশি কাঁচা আম কিনে ঘরে প্রাকৃতিকভাবে পাকানো—যেমন কাগজে মুড়ে বা চালের মধ্যে রেখে পাকানো—সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হিসেবে বিবেচিত। গরমের এই মৌসুমে আমের স্বাদ উপভোগ করতে হলে প্রয়োজন সচেতনতা। কারণ সব রঙিন ও আকর্ষণীয় আমই যে নিরাপদ নয়, সেই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।