ধূমপানের বিকল্প ভ্যাপিং নিরাপদ নয়, আছে ক্যানসারের ঝুঁকি: নতুন গবেষণা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৬, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
ধূমপানের বিকল্প ভ্যাপিং নিরাপদ নয়, আছে ক্যানসারের ঝুঁকি: নতুন গবেষণা

একসময় অনেকেই মনে করতেন, ধূমপানের তুলনায় ভ্যাপিং বা ই-সিগারেট তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর। আবার কেউ কেউ ধূমপান ছাড়ার বিকল্প উপায় হিসেবেও ভ্যাপ ব্যবহার শুরু করেছিলেন। তবে নতুন এক গবেষণা সেই ধারণার ওপর বড় প্রশ্ন তুলেছে।

অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় বিভিন্ন দেশের বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করেন ক্যানসার গবেষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা। তাদের পর্যবেক্ষণে ভ্যাপিংয়ের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাপ বা ই-সিগারেট থেকে নির্গত কিছু রাসায়নিক উপাদান শরীরের কোষের ক্ষতি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং ক্ষতিকর কণা, যা দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস ও মুখগহ্বরের কোষে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাপ ব্যবহারকারীদের শরীরে ডিএনএ ক্ষতি, প্রদাহ এবং কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাণীর ওপর করা পরীক্ষাতেও ফুসফুসে টিউমার তৈরির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন তরুণদের মধ্যে ভ্যাপিংয়ের দ্রুত বিস্তার। বিভিন্ন স্বাদের ধোঁয়া, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং সহজলভ্যতার কারণে অনেক কিশোর ও তরুণ এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গবেষকরা আরও বলছেন, অনেকেই ধূমপান ছাড়ার উদ্দেশ্যে ভ্যাপ ব্যবহার শুরু করলেও পরে দুইটি অভ্যাসই একসঙ্গে চালিয়ে যান। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ধূমপান ও ভ্যাপিং করলে ফুসফুসের ক্ষতির আশঙ্কা বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে গবেষকেরা এটাও জানিয়েছেন, ভ্যাপিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে নতুন অভ্যাস। কিন্তু বর্তমানে পাওয়া তথ্যই সতর্ক হওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে তারা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভ্যাপিং শুরু না করাই সবচেয়ে নিরাপদ। যারা ধূমপান ছাড়তে চান, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কিশোর-তরুণদের ভ্যাপিংয়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আরও সচেতন করা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা। গবেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের অভ্যাস বা আধুনিকতার অনুসরণে শুরু হওয়া ভ্যাপিং ভবিষ্যতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে—এটাই নতুন গবেষণার মূল সতর্কবার্তা।