ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জাবিতে রাতভর বিক্ষোভ, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৬, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জাবিতে রাতভর বিক্ষোভ, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। আসামিকে গ্রেপ্তারে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাতভর বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমসহ প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করেন।

শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন ছাত্রী হল ঘুরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বুধবার আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা, কুইক রেসপন্স টিমে নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা বাস্তবায়ন।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, “গত দুই বছরে একের পর এক ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তাই আমরা তাদের পদত্যাগ দাবি করছি।” একই ধরনের অভিযোগ তুলে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, “নারী শিক্ষার্থীরা বারবার হয়রানির শিকার হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

রাত আড়াইটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের অপরাধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও বাইরের ঘটনায় তা পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত। তবে শিক্ষার্থীরা তার বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, দাবি জানালেই প্রক্টর পদত্যাগ করতে পারেন না এবং বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দেখা হবে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

পরে ভোরের দিকে প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, গত ১৮ মাসে ক্যাম্পাস নিরাপত্তা, সিসিটিভি স্থাপন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জাকসু নির্বাচন সম্পন্নসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আশাবাদও ব্যক্ত করেন।

তবে শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন। প্রশাসনের আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে তারা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে, এবং প্রশাসন-শিক্ষার্থী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।