সংসার ও সুরের সমন্বয়ে শিল্পী মৌ মনির অনন্য অগ্রযাত্রা


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, মারুফ প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
সংসার ও সুরের সমন্বয়ে শিল্পী মৌ মনির অনন্য অগ্রযাত্রা

কক্সবাজারের উখিয়ার মাটি থেকে উঠে আসা জোৎস্না আক্তার মৌ এখন চট্টগ্রামের সংগীতাঙ্গনে পরিচিত এক নাম। শৈশব থেকেই সুরের প্রতি গভীর টান নিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, তা আজ পরিণত হয়েছে মৌলিক গানের সৃজনশীল যাত্রায়। সংগীতকে তিনি কেবল পেশা নয়, বরং এক নিরবচ্ছিন্ন সাধনা হিসেবে গ্রহণ করে গড়ে তুলছেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়।

চট্টগ্রাম শহরে বেড়ে ওঠা এই শিল্পী শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেন প্রখ্যাত ওস্তাদ মিলন আচার্য্য, বাবুল ইসলাম এবং কল্যাণকান্তি নাথ আশিষের কাছে। পরবর্তীতে জগলুল পাশা ও মান্না বড়ুয়ার তত্ত্বাবধানে তিনি নিজেকে আরও শাণিত করেন। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া সংগীতযাত্রায় তিনি আধুনিক গান ও লোকসংগীতের সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন এক বহুমাত্রিক শিল্পীসত্তা।

সম্প্রতি প্রকাশিত তার প্রথম মৌলিক গান ‘প্রেমের ঘাটে’ শ্রোতামহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মৌলিক সৃষ্টির মধ্যেই তিনি খুঁজে পান প্রকৃত শিল্পীসত্তার প্রকাশ। তার ভাষায়, অন্যের সুরের অনুকরণের চেয়ে নিজের সৃষ্ট সুরই একজন শিল্পীর আসল পরিচয় গড়ে দেয়।

বর্তমানে নতুন একাধিক গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই শিল্পী। আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে মানসম্মত সংগীত উপহার দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য। ব্যক্তিজীবনে পরিবারের পাশাপাশি স্বামীর সহযোগিতাই তার সাফল্যের বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তারা মনে করেন, ডিজিটাল যুগে যখন দ্রুত জনপ্রিয়তার প্রবণতা বেড়েছে, তখন মৌলিক সংগীতচর্চা ও শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি তার নিষ্ঠা প্রশংসনীয়। তাদের মতে, তার এই চর্চা নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্রেমের ঘাটে’ প্রকাশের পর থেকেই তিনি শ্রোতাদের প্রশংসায় ভাসছেন। অনেক শ্রোতার মতে, তার কণ্ঠে যেমন মাটির টান রয়েছে, তেমনি আধুনিক গানের মাধুর্যও বিদ্যমান।

এক নজরে শিল্পী মৌ মনির পরিচয়: সংগীত জীবন শুরু: ২০১৭ সাল প্রথম মৌলিক গান: ‘প্রেমের ঘাটে’
পরিচিতি: বহুমাত্রিক শিল্পী শৈলী: আধুনিক ও লোকসংগীতের মেলবন্ধনে নিজস্ব গায়কী গড়ে তোলা