প্রসব সহজ করতে যেসব কাজ জরুরি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
প্রসব সহজ করতে যেসব কাজ জরুরি

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের হার বাড়লেও এখনও অনেক মা স্বাভাবিক প্রসবকে বেশি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করেন। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক প্রসব নিরাপদভাবে সম্ভব।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গাজীপুরের গৃহিণী জান্নাতুল মাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি তার তিন সন্তানের জন্মই স্বাভাবিকভাবে দিয়েছেন। প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে শুরুতে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হলেও পরে অন্য হাসপাতালে গিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাভাবিক প্রসব নির্ভর করে গর্ভবতী মায়ের শারীরিক অবস্থা, বয়স, পূর্বের চিকিৎসা ইতিহাস এবং গর্ভের শিশুর অবস্থানের মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

মানসিক প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ইতিবাচক মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি। ভয়, উদ্বেগ বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা প্রসব প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রেজাউল করিম কাজল বলেন, প্রসূতি মাকে আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। স্বাভাবিক প্রসবের জন্য আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। তাই পরিবারকেও আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।

সুষম খাদ্যাভ্যাস রাখতে হবে

গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ওজন কিংবা কম ওজন—দুই অবস্থাই ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে—

  • তাজা ফল ও শাকসবজি
  • প্রোটিন ও শর্করাসমৃদ্ধ খাবার
  • আয়রন ও ভিটামিনযুক্ত খাদ্য

সঠিক খাদ্যাভ্যাস মায়ের শরীরকে সুস্থ রাখে এবং স্বাভাবিক প্রসব সহজ করতে সহায়তা করে।

নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটা উপকারী

চিকিৎসকদের মতে, হালকা ব্যায়াম ও নিয়মিত হাঁটাচলা শরীরকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে।

গর্ভাবস্থায় যেসব ব্যায়াম উপকারী বলে মনে করা হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • হাঁটা
  • কেজেল ব্যায়াম
  • স্কোয়াট
  • হিপ ওপেনিং ব্যায়াম
  • পেশি শিথিল করার ব্যায়াম

এছাড়া পেরিনিয়াল ম্যাসাজ প্রসবপথকে নমনীয় করতে সহায়তা করে বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রসব পরিকল্পনা আগে থেকেই জরুরি

গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে একটি সুস্পষ্ট প্রসব পরিকল্পনা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে থাকতে হবে—

  • কোন হাসপাতালে প্রসব হবে
  • জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়
  • চিকিৎসক ও রক্তের ব্যবস্থা
  • পরিবারের সদস্যদের সহায়তার পরিকল্পনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবকালীন সময় কয়েক ঘণ্টা থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত হতে পারে। তাই আগে থেকেই হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রস্তুত রাখা উচিত।

চিকিৎসকরা বলছেন, স্বাভাবিক প্রসব একটি প্রাকৃতিক ও কার্যকর পদ্ধতি। সচেতনতা, সঠিক পুষ্টি, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে মা ও শিশুর জন্য এটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।