হেপাটাইটিস কি লিভার নষ্ট করে দিতে পারে?


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
হেপাটাইটিস কি লিভার নষ্ট করে দিতে পারে?

হেপাটাইটিস শব্দটি শোনামাত্র অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, ভয় নয়—সঠিক তথ্য ও সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষাই এই রোগের জটিলতা এড়ানোর মূল উপায়। দীর্ঘদিন শরীরে হেপাটাইটিস ভাইরাস সক্রিয় থাকলে তা ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি করতে পারে এবং পরবর্তী পর্যায়ে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

হেপাটাইটিস মূলত লিভারের প্রদাহ বা সংক্রমণ, যা ভাইরাস, অতিরিক্ত মদ্যপান, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে হতে পারে। তবে ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর প্রধান পাঁচটি ধরন হলো—এ, বি, সি, ডি ও ই।

এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। কারণ এই দুই ভাইরাস দীর্ঘ সময় শরীরে নীরবে অবস্থান করে লিভারের কোষ ধ্বংস করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো উপসর্গই দেখা যায় না, ফলে রোগটি শনাক্ত হয় দেরিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, পেট ফেঁপে থাকা, চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, বমিভাব কিংবা গাঢ় রঙের প্রস্রাব—এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকেরা জানান, ভাইরাস দীর্ঘদিন লিভারে সক্রিয় থাকলে প্রথমে সেখানে ক্ষত সৃষ্টি হয়, যা ধীরে ধীরে সিরোসিস বা লিভার শক্ত হয়ে যাওয়ার অবস্থায় রূপ নেয়। এ পর্যায়ে লিভার তার স্বাভাবিক কাজ সম্পাদন করতে পারে না এবং গুরুতর ক্ষেত্রে রোগী লিভার ফেইলিউর বা কোমায়ও চলে যেতে পারেন।

হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। অন্যদিকে বি, সি ও ডি ছড়ায় আক্রান্ত রক্ত, অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক, দূষিত সুচের ব্যবহার কিংবা মা থেকে সন্তানের মাধ্যমে।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি-এর টিকা অত্যন্ত কার্যকর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি নিরাপদ রক্ত গ্রহণ, একবার ব্যবহারযোগ্য সুচ ব্যবহার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং বিশুদ্ধ পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত বা বাহক হিসেবে জীবনযাপন করছেন। প্রতি বছর এই রোগে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। তবে সময়মতো টিকা, পরীক্ষা এবং চিকিৎসা গ্রহণ করা গেলে অধিকাংশ মৃত্যুই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশেও হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই নীরব রোগের ঝুঁকি কমানো কঠিন।