জুলির সুরের জাদু মাটি থেকে জাতীয় মঞ্চে


চট্টগ্রাম, মারুফ প্রকাশের সময় : মে ৯, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
জুলির সুরের জাদু মাটি থেকে জাতীয় মঞ্চে
চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আর আধুনিক সংগীতের এক অনন্য মিশেল ঘটিয়ে বর্তমান সংগীতাঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী জুলেখা আক্তার জুলি। ২০১২ সালে পেশাদার সংগীতের জগতে পা রাখা এই শিল্পী ইতিমধ্যেই তার কণ্ঠের মাধুর্য দিয়ে জয় করেছেন অগণিত শ্রোতার হৃদয়।
১৯৮৬ সালের ১লা অক্টোবর জন্ম নেওয়া জুলির সংগীতের প্রতি অনুরাগ ছিল শৈশব থেকেই। তার সুরের প্রাথমিক তালিম শুরু হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা একাডেমীতে ওস্তাদ আব্দুল হালীমের হাত ধরে। পরবর্তীতে দেশের আরও বেশ কয়েকজন গুণী সংগীতজ্ঞের সান্নিধ্যে এসে নিজের গায়কী ও সুরের দখলকে আরও শাণিত করেছেন তিনি।
নিজের শিল্পী হয়ে ওঠার নেপথ্যে মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করে জুলি বলেন,আমার সংগীত জগতে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি আমার মা। বাবার অনুপস্থিতিতে মা-ই আমার পৃথিবী। আমার একমাত্র কন্যা সন্তান আর মা-এই দুজনকে ঘিরেই আমার বেঁচে থাকার সকল স্বপ্ন ও সংগ্রাম।
২০১৫ সালে ইকন বাবুর কথা ও সুরে আগুন’ শিরোনামের একটি আইটেম গানের মাধ্যমে জুলির আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে। এরপর এম. এ. আলম শুভর কথায় ‘ক্রাশ’ গানটি তাকে পরিচিতি এনে দেয়। গত এক দশকে তার ঝুলিতে জমা হয়েছে ৩০টিরও বেশি মৌলিক গান।
তার জনপ্রিয় কিছু উল্লেখযোগ্য গান হলো:তুমি আমার হার্টবিট (কাজী শুভর সাথে দ্বৈত)ট্যাক্সি গাড়িতে সুন্দরী মাইয়া (আকাশ সেনের সাথে)একদিন এক ছেলে (শিল্পী জুলির নিজের লেখা)তোর কথা ভেবে ও তুই আমার জীবন জুড়ে (দেলোয়ার আরজুদা শরফ)নিশা লাগিলোরে ও যাব একদিন মরিয়া (এ. এইচ. তুর্য)
জুলির এসব গান ঈগল মিউজিক, আজাদ মিউজিক স্টেশন, সংগীতা ও শাহ আমানত মিউজিকের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় অডিও-ভিডিও প্রকাশনা সংস্থাগুলো থেকে মুক্তি পেয়েছে।
স্টুডিও রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি জুলি একজন নিয়মিত টেলিভিশন ও বেতার শিল্পী। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বাংলাদেশ বেতার এবং এটিএন বাংলার মতো জনপ্রিয় চ্যানেলে নিয়মিত গান পরিবেশন করেন তিনি। দেশব্যাপী স্টেজ প্রোগ্রামেও তার কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হন শ্রোতারা। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে ইতিমধ্যেই তিনি ভূষিত হয়েছেন নানা সম্মাননায়।
কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও এন্ড্রু কিশোরের কালজয়ী গানগুলোকে নিজের আদর্শ মানেন জুলি। বর্তমানে বেশ কিছু নতুন মৌলিক গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। জুলি জানান,
কিছু গানের রেকর্ডিং শেষ হয়েছে, এখন শুধু মিউজিক ভিডিওর কাজ বাকি। আমি সবসময় মানসম্পন্ন কথা ও সুরের গানকে প্রাধান্য দেই। শ্রোতাদের ভালোবাসাই আমার পথচলার মূল শক্তি।
শুদ্ধ সংগীত চর্চার মাধ্যমে চট্টগ্রামের এই গুণী শিল্পী একদিন জাতীয় পর্যায়ে আরও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখবেন-এমনটাই প্রত্যাশা সংগীতবোদ্ধাদের।