
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফার বিরুদ্ধে ঘুস নিয়ে দর কষাকষির অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের পর বুধবার (৬ মে) রাতেই অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফাকে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৫ মে) গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল বডি স্প্রে, শ্যাম্পু ও অলিভ অয়েল। এ সময় পিকআপ চালকসহ দুইজনকে আটক করা হয়।
পরে এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়, যেখানে জসিম উদ্দিনকে চোরাই পণ্যের মূলহোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে এসআই আবু হানিফা ও অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। একাধিক অডিওতে ঘুসের টাকার পরিমাণ নিয়ে দর কষাকষির মতো কথাবার্তা শোনা যায়, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, অডিও নজরে আসার পরই এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে এবং চোরাই পণ্যের মূল অভিযুক্ত জসিম মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বিষয়টি নিয়ে এখনো চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
আপনার মতামত লিখুন :