দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অনিশ্চয়তায় ধুঁকছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন। এক সময় প্রথম শ্রেণীর গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হিসেবে পরিচিত থাকলেও এখন এটি কার্যত চতুর্থ শ্রেণীর জরাজীর্ণ অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো যাত্রী।
স্টেশনে নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, টয়লেট, বিশ্রামাগার কিংবা ফ্যানের মতো মৌলিক সুবিধা। জরাজীর্ণ টিনের ছাউনি থেকে বৃষ্টির পানি পড়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে আন্তঃনগর তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রসহ মোট পাঁচটি ট্রেন চলাচল করলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতায় ভোগান্তি থামছে না।
দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, গাইবান্ধার ফুলছড়ি, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর এলাকার মানুষ ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতে এই স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ট্রেনই এ অঞ্চলের প্রধান ভরসা।
জানা যায়, ২০২১ সালে নতুন আধুনিক স্টেশন নির্মাণের জন্য পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৫ শতাংশও হয়নি। বর্তমানে একটি অস্থায়ী টিনের ছাপড়া ঘরেই স্টেশনের সব কার্যক্রম চলছে। সেখানেই স্টেশন মাস্টার, বুকিং কাউন্টার ও টিকিট অফিসের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
বর্ষাকালে ওই ছাপড়া ঘরে পানি ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিদিনের টিকিট বিক্রির লাখ লাখ টাকা একটি অরক্ষিত পরিবেশে রাখা হচ্ছে, যা নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে এই স্টেশনকে অবহেলা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে গেলেও নতুন করে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব মন্ডল বলেন, “আগের অবস্থায় কষ্ট হলেও কাজ চালানো যেত, এখন আমরা সম্পূর্ণ অসহায়। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুধু কথায় সীমাবদ্ধ।” স্টেশন মাস্টার আব্দুল বাতেন জানান, অস্থায়ী কাঠামোতে কাজ করতে গিয়ে কর্মীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও নগদ অর্থ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরোনো নকশা বাতিল করে নতুন ডিজাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলেই টেন্ডার আহ্বান ও নির্মাণকাজ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এর আগে ১ এপ্রিল রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্টেশন পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো দেখলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের হস্তক্ষেপে দ্রুত স্টেশনের নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং দেওয়ানগঞ্জবাসী একটি আধুনিক ও নিরাপদ রেলস্টেশন ফিরে পাবে।
আপনার মতামত লিখুন :