যুক্তরাষ্ট্র থেকে কফিনবন্দি ফেরা লিমনের দাফন, শোকে স্তব্ধ গ্রাম


মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি, আনিছুর রহমান শাহীন  প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে কফিনবন্দি ফেরা লিমনের দাফন, শোকে স্তব্ধ গ্রাম

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন শেষ পর্যন্ত ফিরলেন নিজ দেশে, তবে নিথর দেহে। সোমবার বিকেলে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে তাকে।

লিমন ছিলেন জহুরুল হক ও লুৎফুন নেছা লতার বড় ছেলে। ২০২৩ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। দীর্ঘ আট দিন পর ২৬ এপ্রিল স্থানীয় একটি সেতুর নিচ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

যদিও তার গ্রামের বাড়ি মাদারগঞ্জে, তবে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার কেরানীগঞ্জে। তার মরদেহ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো একনজর দেখতে হাজারো মানুষ ভিড় জমায়। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহতের স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন লিমন। পরিবারের আশা ছিল, উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় নির্মম বাস্তবতায়। মসজিদের ইমাম মাওলানা তৈয়ব আলী বলেন, লিমন ছিলেন ধর্মভীরু ও সবার প্রিয়। তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা লুৎফুন নেছা বলেন, যে বিমানবন্দর দিয়ে ছেলেকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদায় দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই কফিনবন্দি লাশ গ্রহণ করতে হয়েছে তাকে। বাবা জহুরুল হকও শোকে ভেঙে পড়ে বলেন, সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়ার চেয়ে বড় কষ্ট আর নেই।

জানাজা শেষে মাগরিবের নামাজের পর লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজা শেষে তাকে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। পরিবারের দাবি, লিমনের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুক যুক্তরাষ্ট্র সরকার।