
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় তার মা পারভীন আক্তার ঘটনার দিনের বেদনাদায়ক বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, সকালে তিনি মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবেই দিন শুরু হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ এই ঘটনা, যা পুরো পরিবারকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।
পারভীন আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, রামিসা সকালে দাঁত ব্রাশ ও স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য পাশের রুমে যায়। এ সময় তার বড় বোন পাশের একটি ফ্ল্যাটে চাচার বাসায় যাচ্ছিল। রামিসাও তার সঙ্গে যেতে চেয়েছিল, তবে বড় বোন তাকে বাসায় থাকতে বলে। সেই সময় রামিসা দরজার কাছেই ছিল।
তিনি বলেন, দরজা খোলার মুহূর্তেই হঠাৎ পাশের ফ্ল্যাটের দিক থেকে কিছু ব্যক্তি তাকে টেনে নিয়ে যায় বলে তিনি পরে ধারণা করেন। তবে তখন তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কিছু সময় পর তিনি লক্ষ্য করেন দরজার সামনে একটি জুতা পড়ে আছে, অন্যটি নেই। এ সময় তার বড় মেয়ে একা ফিরে আসে, যা তার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে।
এর কিছুক্ষণ পর তিনি একটি চিৎকার শুনলেও সেটি কার তা বুঝতে পারেননি। তিনি ভেবেছিলেন পাশের ফ্ল্যাট বা আশপাশের অন্য কোনো শিশুর শব্দ হতে পারে। পরে সন্দেহ বাড়লে তিনি প্রতিবেশীদের নিয়ে পাশের ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন, কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি।
পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া দম্পতিসহ আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের একজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এবং অপরজনকে পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে। এই নির্মম ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :