মহাকাশে তৈরি বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে স্যাটেলাইট ও পৃথিবীতে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
মহাকাশে তৈরি বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে স্যাটেলাইট ও পৃথিবীতে

মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে মহাকাশ থেকে পৃথিবী, এমনকি কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানেও তারবিহীনভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হতে পারে।

চীনের শায়ানসি প্রদেশ-এর সিতিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়-এর গবেষকরা ‘সান চেজিং’ বা ‘জুরি’ নামের প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে একটি তারবিহীন বিদ্যুৎ পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। গবেষকদের দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক চলমান লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেছে।

সাম্প্রতিক পরীক্ষায় ১০০ মিটার দূরত্বে তারবিহীন বিদ্যুৎ পরিবহনের দক্ষতা ২০ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এ সময় প্রায় ১ হাজার ১৮০ ওয়াট শক্তি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এছাড়া ড্রোনের জন্যও বিশেষ চার্জিং প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে সফল হয়েছে।

পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে থাকা একটি ড্রোন ৩০ মিটার দূর থেকে স্থিতিশীলভাবে ১৪৩ ওয়াট শক্তি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতের মহাকাশ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে কক্ষপথে স্থাপিত বিশাল সৌরপ্যানেলের সমন্বিত ব্যবস্থা। এসব প্যানেল মহাকাশে সূর্যের আলো সংগ্রহ করে তা মাইক্রোওয়েভ বা লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবী কিংবা স্যাটেলাইটে পাঠাবে।

এই ‘জুরি’ প্রকল্পের প্রথম ধাপ শুরু হয় ২০১৮ সালে। পরে ২০২২ সালের জুনে গবেষক দল মহাকাশ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভূমিভিত্তিক পরীক্ষামূলক যাচাই ব্যবস্থা সম্পন্ন করে। বর্তমানে প্রকল্পটির দ্বিতীয় ধাপে দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহনের প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরশক্তি সংগ্রহ ও রূপান্তরের দক্ষতা বৃদ্ধি, মাইক্রোওয়েভ বিম নিয়ন্ত্রণের নির্ভুলতা এবং অ্যান্টেনার আকার ও ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি ভবিষ্যতের মহাকাশভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।