যে কারণে বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
যে কারণে বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে পারেন—এমন প্রত্যাশার মধ্যেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৮ মে) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২.০১ ডলার বা ১.৮৪ শতাংশ বেড়ে ১১১.২৭ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে দাম ১১২ ডলারের কাছাকাছি উঠেছিল, যা ৫ মে’র পর সর্বোচ্চ। পরে কিছুটা কমে এই পর্যায়ে স্থির হয়।

একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২.৩৩ ডলার বা ২.২১ শতাংশ বৃদ্ধি। এর আগে এটি ১০৮.৭০ ডলারে উঠেছিল, যা ৩০ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। জুন মাসের চুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজে হামলা ও জব্দের ঘটনা এবং এ অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে গত সপ্তাহে উভয় প্রধান তেল বেঞ্চমার্কের দামই ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়া এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক থেকেও কোনো সমাধান না আসায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে ড্রোন হামলার ঘটনা। বিশেষ করে বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আমিরাত। আইজি’র বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, ড্রোন হামলাগুলোকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার মতে, ইরানের ওপর নতুন কোনো সামরিক হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।

অন্যদিকে ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে নতুন হামলার আশঙ্কা এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বাজারে সরবরাহ উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।