বিশ্ববাজারে হঠাৎ সোনার দামে বড় পতন, নেপথ্যে যে কারণ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৬, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে হঠাৎ সোনার দামে বড় পতন, নেপথ্যে যে কারণ

বিশ্ববাজারে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে সোনার দাম। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে মূল্যবান এই ধাতুর দাম একদিনেই ২ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারেও উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে।

শুক্রবার (১৫ মে) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪০ দশমিক ০৭ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত ৫ মে’র পর সর্বনিম্ন অবস্থান। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত সোনার দাম কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫৬ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার আগ্রহ কমে গেছে। একই সঙ্গে ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা কেনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

স্টোনএক্সের বিশ্লেষক রোনা ও’কনেল বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংঘাত এবং সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের পিপিআই ও সিপিআই তথ্য মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর ফলে বন্ডের ইল্ড ও ডলারের দাম আরও বেড়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম চলতি সপ্তাহে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় সুদের হার উঁচু রাখতে হতে পারে, যা সোনার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রোনা ও’কনেল আরও জানান, উপসাগরীয় যুদ্ধ নিয়ে বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্কতা ছিল। এর সঙ্গে ভারতে আমদানি শুল্ক সংক্রান্ত ধারাবাহিক খবর দুর্বল বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ভারতে সোনার বাজারে রেকর্ড পরিমাণ ছাড় দেখা গেছে।

এদিকে স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজারে ইতিবাচক সম্ভাবনা থাকলেও স্বল্পমেয়াদে বাজারের গতিপ্রকৃতি অনিশ্চিতই থাকবে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় দরপতন হয়েছে। স্পট সিলভারের দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮ দশমিক ২৬ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৯১ দশমিক ৩৩ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪২২ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।