খালেদা জিয়ার অবদান এবার পাঠ্যবইয়ে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
খালেদা জিয়ার অবদান এবার পাঠ্যবইয়ে

আগামী শিক্ষাবর্ষ ২০২৭-এর পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে নতুন কিছু বিষয় সংযোজনের পাশাপাশি কয়েকটি বইয়ে ব্যাপক পরিমার্জন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ইতিহাসভিত্তিক নতুন সংযোজনের মধ্যে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ে বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও নবম শ্রেণির বইয়ে তুলনামূলক বিস্তারিত আলোচনা থাকবে।

শুধু ইতিহাস নয়, নতুন পাঠ্যবইয়ে আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কারিগরি শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক নতুন বই এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দময় শিক্ষাবিষয়ক বই যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণির কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষাবিষয়ক বইয়ে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যাপক পরিমার্জন আনা হচ্ছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) জানান, প্রতিবছরই পাঠ্যবই কমবেশি পরিমার্জন করা হয়। তবে এবার নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে পরিবর্তনগুলো করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৩২০ জন শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণে কর্মশালার মাধ্যমে এই কাজ এগিয়ে চলছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের পরিমার্জন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং মঙ্গলবার (১২ মে) থেকে প্রাথমিক স্তরের বই পরিমার্জনের কাজ শুরু হবে। বিভিন্ন পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পরিমার্জনের উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়। পরে ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়েও জুলাই ও নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সরকার প্রতি বছর প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করে। আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, আগামী বছরের সব বই চলতি বছরের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে, যাতে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।