মন্ত্রী না হলে সাক্ষাৎ নয়, ভারতকে কড়া বার্তা নেপালের প্রধানমন্ত্রীর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
মন্ত্রী না হলে সাক্ষাৎ নয়, ভারতকে কড়া বার্তা নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

বিক্রম মিশ্রি-র নির্ধারিত কাঠমান্ডু সফর হঠাৎ স্থগিত হওয়ায় ভারত-নেপাল সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে দেশটির সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সোমবার (১১ মে) দুই দিনের সফরে কাঠমান্ডু পৌঁছানোর কথা ছিল ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের। নতুন সরকার গঠনের পর নেপালের অগ্রাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে সফরটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সফর স্থগিত হওয়ায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক লিপুলেখ সীমান্ত ইস্যুতে দুই দেশের উত্তেজনাই এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। নেপাল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, লিপুলেখ তাদের ভূখণ্ডের অংশ। সম্প্রতি ভারত ও চীন লিপুলেখ হয়ে তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কাঠমান্ডু ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

নেপালের সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে “অন্যান্য ব্যস্ততার” কারণ দেখিয়ে সফর স্থগিতের কথা জানালেও প্রকৃত কারণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নীতিগতভাবে মন্ত্রী পর্যায়ের নিচের বিদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

এর আগে মরিশাস-এ নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর বৈঠকে বিক্রম মিশ্রির সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শাহের জন্য ভারত সফরের আমন্ত্রণপত্রও নিয়ে আসার কথা ছিল বলে জানা যায়।

এদিকে লিপুলেখ ইস্যুতে নেপাল ইতোমধ্যে ভারত ও চীনের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে। জবাবে ভারত জানিয়েছে, সীমান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে তারা প্রস্তুত। তবে দিল্লি স্পষ্ট করেছে, নেপালের একতরফা ভূখণ্ড দাবি তারা মেনে নেবে না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জস্বওয়াল বলেন, দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয় আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। তবে একতরফাভাবে সীমান্ত দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে নেপালের শিক্ষামন্ত্রী সসমিত পোখারেল জানিয়েছেন, সীমান্ত ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং কূটনৈতিকভাবেই সমস্যার সমাধান চায় কাঠমান্ডু। তবে কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ভারত। দিল্লির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী নেপালে জ্বালানি তেল ও রাসায়নিক সার সরবরাহ চালু থাকবে।