মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে কমল সোনার দাম


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে কমল সোনার দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা প্রত্যাশিত অগ্রগতি না পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সোনার দামে দেখা গেছে নিম্নমুখী প্রবণতা। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি ও দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার (১১ মে) স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রায় ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৩৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনা ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৮৬ দশমিক ২০ ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং শান্তি আলোচনায় স্থবিরতার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়ছে। এর প্রভাব সরাসরি সোনার বাজারেও পড়ছে।

ইরান ও লেবানন ঘিরে সংঘাত তীব্র হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকিও বেড়েছে। যদিও সোনাকে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের সোনা থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে আসন্ন মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে।

অন্যদিকে, চীনের সোনা উৎপাদনেও কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিদর্শনের কারণে কয়েকটি খনি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে উৎপাদন কমেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আগামী সময়ে ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮০ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২ হাজার ৪১ দশমিক ৬৬ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮২ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমে এসেছে।