গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা, হাইকোর্টের রায় প্রকাশ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা, হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য বাড়ায় এবং কন্যাশিশু হত্যার ঝুঁকি সৃষ্টি করে, যা সংবিধান ও মানবাধিকারের পরিপন্থি।

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় দেন। সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর মর্যাদা, সমঅধিকার ও জীবনের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যায়। এটি সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দেশে এ বিষয়ে কার্যকর তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি রয়েছে। শুধু নীতিমালা প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং এর বাস্তব প্রয়োগ, নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ছয় মাসের মধ্যে দেশের নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে গর্ভকালীন বিভিন্ন পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।

আদালত আরও বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণকে উৎসাহিত করে এবং সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার আশঙ্কা বাড়ায়, যা সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাইকোর্ট এ নির্দেশনাকে “কন্টিনিউয়াস ম্যান্ডামাস” হিসেবে ঘোষণা করেছেন, অর্থাৎ এর বাস্তবায়ন নিয়মিতভাবে আদালতের তদারকিতে থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। শুনানিতে তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।