
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে কিছু নাম কেবল পদমর্যাদার কারণে নয়, বরং সংগ্রাম, ধৈর্য ও নীতির দৃঢ়তার জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকে। এমনই এক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব ফরিদা খানম—ঢাকার ইতিহাসে প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি)। বিসিএস (প্রশাসন) ২৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি একজন মায়ের ভূমিকা দক্ষতার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন।
গোপালগঞ্জের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ফরিদা খানমের শিক্ষাজীবন শুরু থেকেই ছিল মেধা ও নেতৃত্বের স্বাক্ষরবাহী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি রোকেয়া হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বগুণ ও গণতান্ত্রিক চেতনার জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি।
তবে তার পেশাগত জীবনের পথ সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময় তিনি প্রশাসনের ভেতরে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও বঞ্চনার মুখোমুখি হয়েছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পিছিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। তবে এসব বাধা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি; বরং দায়িত্ববোধ ও সততার পথে আরও দৃঢ় করেছে।
সময় পরিক্রমায় নিজের যোগ্যতার স্বীকৃতি পান ফরিদা খানম। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনের পর তিনি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক জেলাগুলোর একটি ঢাকায় প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান। এই নিয়োগকে অনেকেই বাংলাদেশের নারী নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
কঠোর প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যেও ফরিদা খানমের আরেকটি পরিচয় তিনি একজন মা। এক পুত্রসন্তানের জননী হিসেবে তিনি কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে অসাধারণ ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছেন। ব্যস্ত দাপ্তরিক সময়ের মধ্যেও সন্তানের খোঁজখবর রাখা এবং তার মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখা তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
মা দিবস উপলক্ষে ফরিদা খানমের জীবনগল্প তাই শুধু একজন সফল প্রশাসকের গল্প নয়, বরং একজন সংগ্রামী মায়ের গল্পও বটে। যিনি প্রমাণ করেছেন—চ্যালেঞ্জ যতই কঠিন হোক, সততা, ধৈর্য এবং লক্ষ্য স্থির থাকলে সাফল্য অর্জন সম্ভব। তার জীবন নতুন প্রজন্মের নারী কর্মকর্তাদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণা, তেমনি সমাজে নারী নেতৃত্বের সক্ষমতার শক্তিশালী উদাহরণও।
আপনার মতামত লিখুন :