অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

মূলধারার অর্থনীতির বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁও-এ পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “যারা মূলধারার অর্থনীতির বাইরে রয়েছে, তাদের নাগরিক অধিকার হিসেবে অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে এবং অনানুষ্ঠানিক খাতকে আরও সংগঠিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেকোনো প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত ও মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। তিনি বলেন, পিকেএসএফ ভালো কাজ করছে এবং তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার বিবেচনা করছে। নারীদের অর্থনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবার পরিচালনায় নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং সঞ্চয়ের ক্ষেত্রেও তারা দক্ষ। এজন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থ প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের ব্যয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী বাজেটে এই দুই খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে এবং সেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা হবে।

দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি, যা ভবিষ্যতে বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। হস্তশিল্প, সংস্কৃতি ও ডিজিটাল বাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শীতলপাটি, মিউজিক ও থিয়েটারসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় সম্ভাবনা রয়েছে, তবে পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ভালো ডিজাইন ও আধুনিক মার্কেটিং কৌশল পণ্যের মূল্য বহুগুণ বাড়াতে পারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশের পণ্য ও সংস্কৃতি বিশ্ববাজারে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। খেলাধুলাকে অর্থনীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্রীড়া খাতেও বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে, যা জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এজন্য এই খাতে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।