আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

আর কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি যেন পুলিশকে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস-এ ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজারবাগ পুলিশ লাইন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল ও বেদনাবিধুর স্থান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে এখানে ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত সদস্যকে হত্যা করেছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদ পুলিশ সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তারেক রহমান বলেন, শুধু স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেসব পুলিশ সদস্য আত্মত্যাগ করেছিলেন, সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বলেন, “এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়, আসুন আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।”

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুলিশ বাহিনী সুনামের সঙ্গে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে দেশের জনগণের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু বিদেশে নয়, দেশের মানুষের সঙ্গেও পুলিশের দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি সরকারের আমলে এটিই প্রথম পুলিশ সপ্তাহ। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। চারদিনব্যাপী এ কর্মসূচি আগামী ১৩ মে পর্যন্ত চলবে।