কর্মজীবনে সর্বোচ্চ ৩ বার বদলি হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৬, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
কর্মজীবনে সর্বোচ্চ ৩ বার বদলি হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে সংশোধিত নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে একজন শিক্ষক তার পুরো কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির আবেদন করতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে সফটওয়্যারভিত্তিক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রথম চাকরিতে যোগদানের পর অন্তত দুই বছর পূর্ণ করলে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে একবার বদলি হওয়ার পর পরবর্তী বদলির জন্য নতুন কর্মস্থলে আবারও কমপক্ষে দুই বছর কাজ করা বাধ্যতামূলক হবে।

বদলির ক্ষেত্রে একাধিক আবেদনকারীর মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণে নারী শিক্ষক, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল, জ্যেষ্ঠতা এবং কর্মস্থল থেকে দূরত্বসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষকরা নিজ জেলায় বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে নিজ জেলায় পদ খালি না থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্য জেলাগুলোতে আবেদন করা যাবে। স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল জেলা কিংবা নিজ জেলাতেও বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলি হতে পারবেন। তবে একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষককে একই বছরে বদলির সুযোগ দেওয়া হবে না। বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এনটিআরসিএ নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম শুরুর আগেই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকরা অনলাইনে আবেদন করে সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করতে পারবেন। বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকে অবমুক্ত হতে হবে এবং নতুন প্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের মধ্যে যোগদান করতে হবে। এই সময়কাল কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে এবং এতে জ্যেষ্ঠতা বা আর্থিক সুবিধায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

এছাড়া বদলি হওয়া শিক্ষকদের ইনডেক্স নম্বর ও এমপিও সুবিধার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে কোনো শিক্ষক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত, সাময়িক বরখাস্ত বা স্টপ পেমেন্ট আদেশের আওতায় থাকলে তিনি বদলির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষকবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।