ট্রাফিক আইন ভাঙলেই যাচ্ছে অটো নোটিশ, জারি হতে পারে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
ট্রাফিক আইন ভাঙলেই যাচ্ছে অটো নোটিশ, জারি হতে পারে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও

রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো জেনারেটেড) নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে।

রোববার (৩ মে) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে স্থাপিত আধুনিক সিসি ক্যামেরা—যার মধ্যে এআই প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে—এর মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হচ্ছে। এরপর ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক বা চালকের ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।

নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ডিএমপি সদর দপ্তর বা নির্ধারিত ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

তবে নোটিশ পাওয়ার পরও যদি কেউ হাজির না হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ধাপে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে।

ডিএমপি জানিয়েছে, লালবাতি অমান্য করা, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং লেফট লেন দখল করে রাখার মতো অপরাধগুলো এই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে, সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত মামলার নামে কোনো ধরনের অননুমোদিত অর্থ লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য নগরবাসীকে সতর্ক করেছে ডিএমপি। কোনো ব্যক্তি বা চক্র এ ধরনের প্রতারণার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ডিএমপির এ উদ্যোগকে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা যানজট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।