
দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এসব পদ চিরস্থায়ী নয়—তাই দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও প্রস্তুতি থাকতে হবে।
রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল সোয়া ১০টার পর সচিবালয়ের নিজ দপ্তর থেকে হেঁটে সম্মেলনস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং তিনি হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে এবং নির্বাচনি ইশতেহার ও জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি স্বীকার করেন, দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে সরকার।
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের প্রতি আহ্বান জানান, সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট ও শপিংমলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা নিশ্চিত করতে হবে।চার দিনব্যাপী এই ডিসি সম্মেলন আগামী ৬ মে পর্যন্ত চলবে। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলন ৩ থেকে ৬ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আগেরবারের তুলনায় এক দিন বেশি।
তিনি জানান, সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার কার্যক্রম জোরদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৩০টি কার্য-অধিবেশন। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জেলা প্রশাসকদের পাঠানো ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা খাত থেকে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে ডিসিরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে পৃথক কার্য-অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :