
বঙ্গোপসাগরে আঘাত হেনেছে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প। রোববার (১২ জুলাই) সকালে সংঘটিত এই ভূমিকম্পের কম্পন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় শহর বিশাখাপত্তনমসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৫টা ৫ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। বিশাখাপত্তনমের গাজুওয়াকা, মঙ্গলাপালেম, সাগর নগর, পেদ্দা ওয়ালটেয়ার, আরিলোভা, এমভিপি কলোনি ও আপ্পুঘরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা হালকা কম্পন অনুভব করেন।
ভারতের ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস (ইনকয়েস) জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে বিশাখাপত্তনম শহরের কয়েকটি এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভারতীয় সময় সকাল ৫টা ৫ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং কাকিনাডা উপকূল থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিশাখাপত্তনম ছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশের আনাকাপল্লি, ভিজিয়ানাগারাম, কাকিনাডা ও কোনাসিমা জেলার বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি ছিল একটি অগভীর ভূমিকম্প। ভূ-গঠনের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে এমন মৃদু কম্পন অনুভূত হতে পারে। তবে এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও জানিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের এই অঞ্চলটি তুলনামূলকভাবে ভূ-তাত্ত্বিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা কম।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে বিশাখাপত্তনম ও আলুরি সীতারামা রাজু জেলাতেও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। এছাড়া ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর উত্তর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি এলাকায় ৩ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই সময়ও আতঙ্ক ছড়ালেও কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
আপনার মতামত লিখুন :