ভারতে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিশাল এলাকা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৩০, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
ভারতে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিশাল এলাকা

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ও ক্যাম্প তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তবর্তী এলাকার একটি স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন এই অভিযোগ তুলেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ‘নাহ’ আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংগঠন ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ দাবি করেছে, ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে চীনা বাহিনী বেশ কিছু এলাকায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। তাদের অভিযোগ, চীনা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কারণে গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই এলাকায় চাষাবাদ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও পশুচারণ করতে পারছেন না।

সংগঠনটির সভাপতি কেরু চাদের আপার সুবনসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলেন, এসব এলাকা তাদের পূর্বপুরুষদের জমি। বহু বছর ধরে স্থানীয়রা সেখানে শিকার, কৃষিকাজ ও পশুপালন করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে চীনা সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির কারণে তারা সেখানে যেতে পারছেন না।

স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) সংলগ্ন তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের অন্তত পাঁচটি এলাকায় চীনা বাহিনী প্রবেশ করে স্থাপনা ও সড়ক নির্মাণ করেছে। অভিযোগ করা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে আসফিলা এলাকার ওয়িং, পনিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান, পোত্রাং ও টিনডিংতাং।

কেরু চাদের দাবি করেন, প্রায় ১২ বছর আগে থেকেই ওই এলাকাগুলোতে চীনা সেনাদের আনাগোনা ছিল। তবে ২০২০ সালের পর তারা কৌশলগতভাবে এসব এলাকায় অবস্থান শক্ত করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর থেকেই তাদের চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক নাকাপ নালো বলেন, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। তাই আদিবাসী সংগঠনের অভিযোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনের সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ ও ঘাঁটি স্থাপনের যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা ভুল ও ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে অরুণাচল প্রদেশ সরকার বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে লাদাখ সীমান্তেও চীনা বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ ও স্থানীয় পশুপালকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে ভারত সরকার সে সময় জানিয়েছিল, দেশের কোনো ভূখণ্ড চীনের দখলে যায়নি।