
দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের (ডিওয়াইডি) আওতায় বর্তমানে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত দৃশ্যমান ফল অর্জনের লক্ষ্যে আরও ছয়টি নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের (জামালপুর-৩) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। আমিনুল হক বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের বেকার যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করা।
তিনি জানান, বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ‘টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়, দারিদ্র্য বিমোচনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও জাতীয় যুব প্ল্যাটফর্ম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প।
এ ছাড়া শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা (এনইইটি) যুবকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ইএআরএন প্রকল্প, কক্সবাজারে নারী ও যুবকদের দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির আইএসইসি প্রকল্প, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নতুন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পও চলমান রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ৬৪ জেলায় আইসিটি প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষিত চাকরিপ্রত্যাশী যুবকদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ এবং আইসিটি দক্ষ যুবকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি বেকার যুবকদের দ্রুত কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে আরও ছয়টি অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারকরণ, যানবাহন চালনা প্রশিক্ষণ, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সেবাদানে কেয়ারগিভার উন্নয়ন, মহানগর এলাকায় বেকার যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ এবং মোবাইল সার্ভিসিং ও ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
আমিনুল হক বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
আপনার মতামত লিখুন :