
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আইএমওর মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এ তথ্য জানিয়েছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আইএমও প্রধান জানান, সংঘাত চলাকালে ১৪ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ওমানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতায় বড় পরিসরে উদ্ধার ও স্থানান্তর কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, এই কার্যক্রম প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম কতটা ব্যাহত করেছে। এর ফলে হাজার হাজার বেসামরিক নাবিক দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে আটকে ছিলেন।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। কোনো দেশই আন্তর্জাতিক জলপথে টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না।
আইএমওর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ওই অঞ্চলে প্রায় ৬০০টি জাহাজ আটকে রয়েছে। এক বিবৃতিতে আরসেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিশ্চয়তা পেয়েছে এবং নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি যাচাই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “হাজার হাজার নিরীহ নাবিকের দীর্ঘ দুর্ভোগ এবং বিশ্বব্যাপী নেতিবাচক প্রভাবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত শান্তি চুক্তিকে আমি স্বাগত জানাই। এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জাহাজের ওপর হামলা বন্ধের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” এদিকে সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন কিয়েস বাকেন্স জানান, তেল সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য জাহাজগুলো আবার হরমুজ প্রণালিতে ফিরতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ওমান সরকারের নির্দেশনা থেকে বোঝা যাচ্ছে, জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার করানোর জন্য একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রণালিতে থাকা সম্ভাব্য মাইন এখনো উদ্বেগের বিষয়। যদিও ওমানের দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নাবিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে যে নির্ধারিত পথ অনুসরণ করলে নিরাপদে চলাচল সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :