আগামী দুবছর সময় কঠিন যাবে: অর্থমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২২, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
আগামী দুবছর সময় কঠিন যাবে: অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতি নানামুখী চাপে রয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতিরও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি উল্লেখ করে আগামী দুই বছর কঠিন সময় পার করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, “দুই বছর সময় কঠিন যাবে—আমি আগেভাগেই বলছি। এই দুই বছর সবাইকে মিলে কষ্ট করতে হবে।” সোমবার (২২ জুন) ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের যৌথ আয়োজনে ‘দ্য ফিসকাল কম্পাস ২০২৬: বিয়ন্ড দ্য নাম্বার্স, শেপিং বাংলাদেশস ফিউচার, প্রপোজড ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২০২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এবারের বাজেট প্রণয়ন ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সরকারের হাতে সময় ছিল মাত্র দেড় মাস, অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা সহজ ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, এবারের বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ। অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৃহত্তর অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টির ভিত্তিতে একটি নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সৃজনশীল অর্থনীতি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা প্রতিভাবান মানুষ ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে যথাযথ সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বরিশালের শীতল পাটি তৈরির কারিগরদের কথা উল্লেখ করে বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে এসব শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

আমির খসরু বলেন, স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে ই-বে ও অ্যামাজনের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী, বাউল, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ঐতিহ্যভিত্তিক শিল্পেরও আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিতে দুই বছর সময় আবহাওয়ালাগবে। তৃতীয় বছর ভালো সময় আসবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির বছর। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ ও ব্যাংকাররা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাজেট, অর্থনৈতিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।