
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রাতভর ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার (২১ জুন) রাতে চালানো এ হামলায় অন্তত ৬০টি বিস্ফোরকবাহী সামরিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। হামলার পর নিরাপত্তার কারণে মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সোমবার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতভর ব্যাপক ড্রোন হামলা হলেও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই সব ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, ইউক্রেন থেকে আসা সব ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় সোবিয়ানিন বলেন, মস্কোর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলো সরিয়ে ফেলার কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, বাড়তি সতর্কতা হিসেবে রাজধানীর আকাশসীমায় সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে মস্কোর শেরেমেতিওভো, দোমোদেদোভো, ভ্নুকোভো এবং ঝুকোভস্কি—এই চারটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিমানবন্দরগুলো আবার চালু করা হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে ইউক্রেন। এসব হামলায় মস্কোর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
এর আগে গত সপ্তাহেও মস্কোর একমাত্র তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। ওই হামলায় দুই শতাধিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করে দেয় বলে জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষই এখন দূরপাল্লার হামলা ও ড্রোন ব্যবহারের ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে। বিশেষ করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার মাধ্যমে চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে ইউক্রেন।
আপনার মতামত লিখুন :